মহামুনি তীর্থ
পরিক্রমা ২০২৬ - বৌদ্ধ তীর্থস্থান দর্শনে সাদর আমন্ত্রণ
বুদ্ধের জীবন,
বাণী ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ভারতীয় উপমহাদেশের পবিত্র তীর্থস্থানগুলো
দর্শনের সুযোগ করে দিতে আয়োজিত হচ্ছে “মহামুনি তীর্থ পরিক্রমা ২০২৬”।
দীর্ঘ ৩০ দিনের এই তীর্থযাত্রায় বুদ্ধের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির স্মৃতিবিজড়িত
স্থান, প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন এবং ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের পরিকল্পনা
রয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সাল থেকে তীর্থযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত এই উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরে বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছেন।
এক নজরে মহামুনি
তীর্থ পরিক্রমা ২০২৬
| বিষয় | বিস্তারিত |
| ভ্রমণের নাম | মহামুনি তীর্থ পরিক্রমা ২০২৬ |
| ভ্রমণের ধরন | বৌদ্ধ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক তীর্থযাত্রা |
| ভ্রমণের সময়কাল | দীর্ঘ ৩০ দিন |
| প্রধান গন্তব্য | ভারত ও সংশ্লিষ্ট বৌদ্ধ তীর্থস্থান |
| লুম্বিনী | সম্ভব হলে ভ্রমণের অন্তর্ভুক্ত করা হবে |
| বিশেষ আকর্ষণ | কাশ্মীর ভ্রমণ |
| অংশগ্রহণ ফি | মাত্র ৩৫,০০০ টাকা |
যেসব তীর্থস্থান ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে
এই তীর্থপরিক্রমায়
বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অন্তর্ভুক্ত
করা হয়েছে। পরিকল্পিত গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বুদ্ধগয়া, সারনাথ,
সাংকাশ্য নগর, শ্রাবস্তী, কুশীনগর, বৈশালী, নালন্দা, রাজগীর, আগ্রা, দিল্লি, কপিলাবস্তু,
পাঞ্জাব ও কাশ্মীর।
এ ছাড়া সুযোগ ও পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে নেপালের লুম্বিনী ভ্রমণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
- বিশেষ আকর্ষণ: কাশ্মীর
এই তীর্থপরিক্রমার
অন্যতম উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ কাশ্মীর ভ্রমণ। ভারতের অন্যান্য ঐতিহাসিক ও বৌদ্ধ তীর্থস্থানের
পাশাপাশি কাশ্মীরকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ধর্মীয় তীর্থদর্শনের পাশাপাশি
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক পরিবেশ উপভোগেরও সুযোগ থাকবে।
বুদ্ধের জীবন ও বৌদ্ধ ইতিহাসের স্মৃতিবিজড়িত স্থান
মহামুনি তীর্থ
পরিক্রমার গন্তব্যগুলোর অধিকাংশই বৌদ্ধ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বুদ্ধগয়া বুদ্ধের বোধিলাভের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র স্থান। সারনাথ সেই ঐতিহাসিক স্থান,
যেখানে বুদ্ধ প্রথম ধর্মদেশনা প্রদান করেন বলে বৌদ্ধ ঐতিহ্যে স্বীকৃত। কুশীনগর বুদ্ধের
মহাপরিনির্বাণের সঙ্গে সম্পর্কিত পবিত্র তীর্থস্থান।
অন্যদিকে শ্রাবস্তী,
বৈশালী, নালন্দা, রাজগীর ও সাংকাশ্য প্রাচীন বৌদ্ধ ইতিহাস, শিক্ষা, সাধনা ও ধর্মীয়
ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তীর্থযাত্রীরা এসব স্থান সরাসরি পরিদর্শনের
মাধ্যমে বৌদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পাবেন।
তীর্থযাত্রীদের জন্য যেসব সুবিধা
দীর্ঘ ৩০ দিনের
ভ্রমণকে আরামদায়ক ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুবিধার কথা
জানানো হয়েছে।
| সুবিধা | বিস্তারিত |
| পরিবহন | আরামদায়ক পরিবহন ব্যবস্থা |
| আবাসন | মানসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা |
| খাবার | বিশুদ্ধ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার |
| গাইড | অভিজ্ঞ গাইডের সহযোগিতা |
| চিকিৎসা | প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা |
মাত্র ৩৫ হাজার টাকায় তীর্থপরিক্রমা
আয়োজকদের দেওয়া
তথ্য অনুযায়ী, ৩০ দিনের এই দীর্ঘ তীর্থযাত্রায় অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত ফি মাত্র
৩৫,০০০ টাকা।
এই ব্যয়ের আওতায় যাতায়াত, আবাসন ও খাবার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও কোন বিষয়ে জানার থাকলে ভ্রমণের আগে তা আয়োজকদের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত পারাপার, ভিসা, ব্যক্তিগত খরচ বা সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয় সম্পর্কে আগেই নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সম্ভাব্য ভ্রমণ
গন্তব্য: বুদ্ধগয়া, সারনাথ, সাংকাশ্য নগর,
শ্রাবস্তী, কুশীনগর, বৈশালী, নালন্দা, রাজগীর, আগ্রা, দিল্লি, কপিলাবস্তু, পাঞ্জাব,
কাশ্মীর, লুম্বিনী—সম্ভব হলে।
বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ
তীর্থযাত্রায়
অংশগ্রহণ, ভ্রমণসূচি, খরচ, পরিবহন, আবাসন এবং অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নিচের
দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
| দায়িত্ব | নাম | যোগাযোগ |
| ধর্ম উপদেষ্টা |
ভদন্ত কে. জ্যোতিমিত্র থের অধ্যক্ষ, পরমানন্দ বৌদ্ধ বিহার, দক্ষিণ জোয়ারা, চন্দনাইশ পৌর সদর, চট্টগ্রাম |
01815-156151 |
| পরিচালক | বাবু খোকন বড়ুয়া বাহির সিগন্যাল, পশ্চিম বড়ুয়া পাড়া, চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম |
01819-336997 |
| সহকারী পরিচালক | হিরন্ময় বড়ুয়া বেলখাইন, পটিয়া, চট্টগ্রাম; বর্তমান: কসমোপলিটন আবাসিক, চট্টগ্রাম |
01715-710771 |
| সহকারী পরিচালক | মিষ্টার আলুংওয়ে রাখাইন ছোট রাখাইন পাড়া, গোরকঘাটা, মহেশখালী |
01840-225785 |
| মিডিয়া পার্টনার | শিমুল বড়ুয়া উনন Buddha Barta, সম্পাদক ও প্রকাশক |
01866-156789 |
| সার্বিক সহযোগিতা | টনি বড়ুয়া চান্দগাঁও বাহির সিগন্যাল, পশ্চিম বড়ুয়া পাড়া |
01647-112114 |
কেন অংশ নেবেন এই তীর্থযাত্রায়?
একটি তীর্থযাত্রা
শুধু ভ্রমণ নয়—এটি হতে পারে ইতিহাস, ধর্ম, সংস্কৃতি
ও আত্মঅনুসন্ধানের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। বুদ্ধের বোধিলাভের স্থান থেকে শুরু করে প্রথম
ধর্মদেশনা, মহাপরিনির্বাণ এবং প্রাচীন বৌদ্ধ শিক্ষা ও সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো
পরিদর্শনের মাধ্যমে এই ভ্রমণ একজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর জন্য বিশেষ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
বহন করতে পারে।
“মহামুনি তীর্থ
পরিক্রমা ২০২৬” তাই হতে পারে পবিত্র তীর্থদর্শনের পাশাপাশি
বৌদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে কাছ থেকে জানার একটি দীর্ঘ ও স্মরণীয় যাত্রা।
তীর্থযাত্রায় অংশগ্রহণে আগ্রহীদের জন্য
যারা ৩০ দিনের এই তীর্থপরিক্রমায় অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী, তারা নির্ধারিত যোগাযোগ নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করে আসন, ভ্রমণসূচি, খরচের অন্তর্ভুক্তি, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য আগে নিশ্চিত করে নিতে পারেন।
নোট: এটি আয়োজকদের
দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। ভ্রমণসূচি, লুম্বিনী অন্তর্ভুক্তি, গন্তব্য,
খরচ ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন হতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে
সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের কাছ থেকে সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।


