এসএসসি ২০২৬ ফল পুনঃনিরীক্ষণ: নতুন অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদন করবেন যেভাবে

Shimul Barua
0

এসএসসি ২০২৬ ফল পুনঃনিরীক্ষণ: নতুন অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদন করবেন যেভাবে

এসএসসি ২০২৬ ফল পুনঃনিরীক্ষণ: নতুন অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদন করবেন যেভাবে

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর ফলাফল প্রকাশের পর অনেক শিক্ষার্থী প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তাদের জন্য শিক্ষাবোর্ডগুলো পুনঃনিরীক্ষণ বা খাতা চ্যালেঞ্জের সুযোগ দিয়েছে। এবার পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। ঘরে বসেই আবেদন করা যাবে এবং বিকাশ, নগদ বা সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে।

পুনঃনিরীক্ষণ এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে

আবেদনের সময়সীমা: ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত।

পোর্টাল: https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd

ফি: প্রতি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা। [দুই পত্রবিশিষ্ট বিষয় (বাংলা, ইংরেজি, উচ্চতর গণিত ইত্যাদি): উভয় পত্রের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে।]

পেমেন্ট: বিকাশ, নগদ, সোনালী সেবা।

ম্যানুয়াল আবেদন: গ্রহণযোগ্য নয়।

 

পুনঃনিরীক্ষণে আসলে কী যাচাই হয়

এ প্রক্রিয়ায় মূলত নম্বর যোগ, ওএমআর শিটের তালিকাভুক্তি এবং কোনো উত্তরের নম্বর বাদ পড়েছে কিনাএসব কারিগরি ভুল যাচাই করা হয়। অনেক শিক্ষার্থী ভেবে নেন যে খাতা নতুন করে মূল্যায়ন হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, এবার মূল উত্তরপত্রও দেখা হবে এবং ভুল থাকলে সংশোধন করা হবে। তবে বোর্ডের নির্দেশনায় প্রধান জোর নম্বর গণনা ও তালিকাভুক্তির ওপরই।


ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া

  • ১. পোর্টালে প্রবেশ: rescrutiny.eduboardresults.gov.bd এ গিয়ে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং বোর্ড নির্বাচন করে সাবমিট করুন। রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রবেশপত্র বা রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখে হুবহু লিখুন।
  • ২. মোবাইল নম্বর দিন :সচল ও নিয়মিত ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিন। পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল এই নম্বরে এসএমএসে জানানো হবে।
  • ৩. বিষয় নির্বাচন: স্ক্রিনে আপনার সব বিষয়ের নম্বর দেখাবে। যেসব বিষয়ে পুনঃনিরীক্ষণ করাতে চান, সেগুলো সিলেক্ট করুন। দুই পত্রবিশিষ্ট বিষয়ে দুটো পত্রই আলাদাভাবে নির্বাচন করতে হবে।
  • ৪. ফি পরিশোধ: নির্বাচিত বিষয় অনুযায়ী মোট ফি দেখাবে। বিকাশ, নগদ বা সোনালী সেবার মাধ্যমে পরিশোধ করুন। পেমেন্টের আগে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স নিশ্চিত করুন।
  • ৫. চূড়ান্ত জমা: ফি পরিশোধের পর পোর্টালে ফিরে এসে জমা নিশ্চিত করুন। নিশ্চিতকরণ বার্তার স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে রাখুন।


আবেদন সংশোধন ও বাতিল

ফি পরিশোধের আগে বিষয় বাদ দেওয়া বা নতুন বিষয় যোগ করা যায়। একবার ফি জমা দিলে আর পরিবর্তন বা বাতিল করা যায় না এবং ফি ফেরতযোগ্য নয়। তাই ফি দেওয়ার আগে ভালো করে যাচাই করুন।

একবার আবেদন সম্পন্ন করার পর আরও বিষয় যোগ করতে চাইলে আগের মোবাইল নম্বর দিয়েই করা যাবে।


কোন কোন বোর্ডে প্রযোজ্য

ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডসব বোর্ডেই একই অনলাইন পদ্ধতি প্রযোজ্য। ভুল বোর্ড নির্বাচন করলে সিস্টেম তথ্য যাচাই করতে পারবে না।


কোন বিষয়ে আবেদন করা যুক্তিযুক্ত

  • নিজের প্রস্তুতি ও পরীক্ষার হলে লেখার তুলনায় নম্বর অস্বাভাবিক কম মনে হলে।
  • জিপিএ-৫ বা কাঙ্ক্ষিত গ্রেড থেকে সামান্য নম্বরের জন্য বাদ পড়লে।
  • একাধিক প্রশ্নের উত্তর ভালো লেখার পরও প্রত্যাশিত নম্বর না পেলে।
  • যেসব বিষয়ে ফলাফল সন্তোষজনক, সেখানে অযথা আবেদন না করাই ভালো। ফি অফেরতযোগ্য।


সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন

  • রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বরে ভুল টাইপ।
  • ভুল বোর্ড নির্বাচন।
  • দুই পত্রবিশিষ্ট বিষয়ের একটি পত্র বাদ দেওয়া।
  • নিয়মিত ব্যবহার না হওয়া মোবাইল নম্বর দেওয়া।
  • পেমেন্টের সময় ব্যালেন্স চেক না করা।
  • ফি দেওয়ার আগে বিষয় নির্বাচন ভালোভাবে যাচাই না করা।


ফলাফল কখন ও কীভাবে জানা যাবে

আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএস আসবে। বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে চেক করা যাবে। নম্বর পরিবর্তন হলে সংশোধিত মার্কশিট প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়।


প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: খাতা চ্যালেঞ্জ করলে নম্বর কমে যেতে পারে?

উত্তর: সাধারণত না। প্রক্রিয়ায় নম্বর কমানোর সুযোগ নেই।

প্রশ্ন: একসঙ্গে একাধিক বিষয়ে আবেদন করা যাবে?

উত্তর: হ্যাঁ। প্রতি পত্রের জন্য আলাদা ফি প্রযোজ্য হবে।

প্রশ্ন: সরাসরি বোর্ডে গিয়ে আবেদন করা যাবে?

উত্তর: না। সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক।

প্রশ্ন: ফি পরিশোধের পর ভুল বিষয় নির্বাচন হলে কী করবেন?

উত্তর: পরিবর্তন বা বাতিল করা যায় না এবং ফি ফেরত পাওয়া যায় না। তাই আগে ভালোভাবে চেক করুন।

প্রশ্ন: সময়সীমা পার হয়ে গেলে কোনো সুযোগ আছে?

উত্তর: না। নির্ধারিত সময়ের পর আর আবেদন গ্রহণ করা হয় না।


এসএসসি ২০২৬-এর ফল পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়া এবার আগের চেয়ে সহজ ও স্বচ্ছ করা হয়েছে। সঠিক তথ্য দিয়ে, সময়মতো এবং সতর্কতার সাথে আবেদন করলে জটিলতা এড়ানো যায়। যেসব বিষয়ে প্রকৃতপক্ষে সংশয় আছে, শুধু সেগুলোতেই আবেদন করুন। শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে আগেভাগেই সম্পন্ন করাই ভালো।

আবেদনের সময় পোর্টালের ‘হেল্প অপশন থেকে পেমেন্টের বিস্তারিত নির্দেশনা দেখে নিন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top